অবসরের পরিকল্পনা সম্পর্কে খোলামেলা জবাব যুবরাজের

নয়াদিল্লি: ক্রিকেট অন্যতম সেরা বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান যুবরাজ সিংহ। তাঁর সতীর্থ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও তাঁর প্রতিভার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ভারতীয় দলের হয়ে খেলে নিজেকে একটা দৃষ্টান্ত হিসেবে গড়ে তুলেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ২০১১-তে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন যুবি। তিনিই ছিলেন ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপে ব্যাট-বল ও ফিল্ডিং-এই তিন বিভাগেই অসাধারণ পারফরম্যান্সের আগেও যুবি প্রায় এক দশক ধরেই দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বকাপের পরই ছন্দপতন। ধরা পড়ল ক্যানসার রোগ। সেই রোগ সারিয়ে মাঠেও ফেরেন যুবি। ফিরে এসে বেশ ভালো পারফর্ম করেছেন। কিন্তু সেই চেনা যুবিকে সেভাবে দেখা যায়নি। তারপর ধারাবাহিক পড়তি পারফরম্যান্স ও ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যুবি আর ভারতীয় দলে ডাক পাননি। নির্বাচকদের বিবেচনার তালিকাতেও সম্ভবত তিনি আর নেই। এই অবস্থায় জাতীয় দলে তাঁর কেরিয়ার শেষ হয়ে গিয়েছে বলে অনেকেই মনে করলেও ৩৬ বছরের যুবি মনে করেন, তিনি এখনও ২-৩ বছর খেলতে পারেন।
যুবরাজ বলেছেন, কোনও আক্ষেপ রেখে আমি খেলা ছাড়তে চাই না। আমি মনে করি, আমি আরও কয়েক বছর খেলতে পারব। যখন মনে করব, নিজের সেরাটা দিয়ে ফেলেছি, এর থেকে বেশি কিছু করার নেই, এটাই অবসরের সেরা সময়-তখনই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা ভাবব। খেলাটা আমি এখনও উপভোগ করছি, তাই এখনও খেলছি, ভারতের হয়ে বা আইপিএলে খেলার জন্য নয়।
এবারের আইপিএলের নিলামে তাঁকে ২ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছে কিংস ইলেভেন পঞ্জাব। আইপিএলে মাঠে নেমে ১০০ শতাংশ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। যুবি বলেছেন, এক্ষেত্রে জাতীয় দলে কামব্যাক ঘটবে কিনা, তা নিয়ে মাথাব্যাথা নেই তাঁর।
একইসঙ্গে যুবি বলেছেন, ভারতের হয়ে খেলাটা নিঃসন্দেহে একটা মোটিভেশন। আমি মনে করি-আইপিএলের আরও দু-তিনটে মরশুমে খেলতে পারি। ভারতে হয়ে খেলি বা না খেলি, মাঠে ১০০ শতাংশই দেব।
নিজের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন যুবি। তিনি বলেছেন, ধারাভাষ্য দিতে তিনি ততটা আগ্রহী নন। ভবিষ্যতে ক্যানসার নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। একইসঙ্গে উঠতি প্রতিভাদের সমর্থন এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে আলাপচারিতা চালিয়ে যাওয়া তাঁর ভালো লাগার বিষয় বলেও জানিয়েছেন যুবি।
যুবরাজ আরও বলেছেন, কোচিং দেওয়ার ব্যাপারটি মাথায় রয়েছে। এক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধাহীন শিশুদের চিহ্নিত করে তাদের খেলা ও পড়শোনায় গুরুত্ব দেবেন তিনি। তিনি মনে করেন, খেলার মতো পড়াশোনাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুটি ক্ষেত্রেই নজর দিতে হবে।
ভারতের হয়ে ৩০৪ টি একদিনের ম্যাচ, ৪০ টি টেস্ট এবং ৫৮ টি২০ ম্যাচ খেলে মোট ১১,৭৭৮ রান করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের মেয়াদ ১৭ বছরের বেশি।

Releated Post