প্যারিসে রহস্যজনক মৃত্যু তরুণ বাঙালি বিজ্ঞানীর

উত্তরপাড়া: প্যারিসে রহস্যজনক মৃত্যু বাঙালি বিজ্ঞানীর। হুগলির উত্তরপাড়ার বাসিন্দা স্নিগ্ধদীপ দে প্যারিসে গত চারবছর ধরে কর্মরত ছিলেন।

পরিবারের দাবি, গত শনিবার শেষবার তাঁদের কথা হয় বিজ্ঞানী ছেলের সঙ্গে। তারপর থেকে যোগাযোগ করা যায়নি। গতকাল উত্তরপাড়ার বাড়িতে স্নিগ্ধদীপের মৃত্যুর খবর আসে। কীভাবে মৃত্যু, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পরিবারের লোকজন।

স্নিগ্ধদীপের পরিবারের লোক প্যারিসে যে বাড়িতে ছেলে থাকতেন, সেখানকার মালকিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের অস্পষ্ট ফ্রেঞ্চ এবং ইংরেজি ভাষার মিশেলে জানানো হয় স্নিগ্ধদীপের হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু কেন, কীভাবে, সেব্যাপারে স্পষ্ট কোনও উত্তর দেননি বাড়ির মালকিন।

এরপর প্যারিসে বসবাসকারী স্নিগ্ধদীপের বন্ধুরা ভারতে বিদেশমন্ত্রককে টুইট করে পুরো ঘটনার কথা জানান।  প্যারিসের দূতাবাস থেকে খুব দ্রুততার সঙ্গে বিজ্ঞানীর পরিবারের সঙ্গে যোগায়োগ করা হয় উত্তরপাড়ায়। আশ্বাস দেওয়া হয়, তারাই দায়িত্ব নিয়ে স্নিগ্ধদীপের দেহ ভারতে পাঠাবে এবং সবধরনের তদন্তে  সাহায্য করবে।

তবে এই মৃত্যু নিয়ে স্নিগ্ধদীপের পরিবারের লোকের দাবি, ছেলে খুবই শরীরের ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। সেখানে তাঁর কীভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়, সেই নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে সকলের মনে। শনিবার বাড়ির লোকের সঙ্গেও কথা বলেন স্নিগ্ধদীপ। শুধু সেদিন রাতে কোনও নৈশভোজ করেনি ছেলে বলে জানতে পেরেছেন বিজ্ঞানীর পরিবার।

বিজ্ঞানীর পরিবার সূত্রে দাবি, রবিবার বাড়ির মালকিন পুলিশে খবর দেন। কেন পুলিশে খবর দেওয়া হয়েছিল, সেব্যাপারে ভারতে বিজ্ঞানীর পরিবারের লোককে কিছু জানানো হয়নি। পরিবারের লোক জানতে পেরেছে, সেই সময়ই পুলিশ এসে প্রাথমিক পরীক্ষা করে জানান, খুব সম্ভবত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্নিগ্ধদীপের মৃত্যু হয়েছে। তবে এবিষয়ে বিজ্ঞানীর পরিবারের লোকের মনে সন্দেহ রয়েছে। রবিবার কী এমন ঘটেছিল, যার জেরে এই পরিণতি হল। কেনই বা স্নিগ্ধদীপের বাড়ির মালকিন রবিবার বাড়ি থাকতেন না, কিন্তু ঘটনার দিন ছিলেন। এছাড়া কেনই বা তিনি সকলের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বলেছিলেন, সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ।

Releated Post